ভাষাহীন রথযাত্রা
-অতনু
বন্দ্যোপাধ্যায়
অবাধ্য বলে
কিছু হয় না। এই ঝিলের কাছে এসে দাঁড়ালে গোটা পাড়াটাকেই আমার দেবতা মনে হয়। নিরাকার
মনে হয়। সামান্য যে কয়েকটা ছায়া আর ছায়ামানুষ এখনও জলে ডুব দিচ্ছে তাদের শুধু ধরে
রেখেছে চারপাশের অন্ধকার গুলি। কিছুটা স্পষ্ট অস্পষ্ট নিয়ে এই সিদ্ধান্ত আমাকে
প্রতিদিনই মঞ্চে তুলে দেয় পারের গন্ধ পেতে। স্থির জলে মাছের ল্যাজের সামান্য
নড়াচড়া মেপে নিতে।
এতটা সময়
পেরিয়ে যাবার পরেও ওরা এলো না। কবিতাও না। আশা ছিল আজ হয়তো দেখা হবে কারণ দিনের
প্রচুর বৃষ্টি আর বিকেলের থেমে থাকা গলিপথে বহু মানুষের চোখে চোখ রেখেও আমি ওকে
দেখতে পাই নি। শুধু খুঁজতে খুঁজতে আরোগ্যের একটা কান্নাচোখ আর সেই চোখের চারপাশে
ঘুরে বেড়াচ্ছে এখন মায়ের গন্ধ। আর লেপ্টে থাকারা।
বিশ্বাস
বলতে এটুকুই। ভাল হয়ে ওঠা বলতে এক দৌড়ে ফিরে পেতে চাওয়া শাড়ি সোহাগ আর রেখে যাওয়া
ডাইরীটা।
রাতের আলোরা
আরও জোরালো হয়ে উঠছে ক্রমশ। ঝিলের বাচ্চারা উঠে আসছে ডাঙায়।
হাতের গ্যালারিতে পদাবলি এঁকে দিতে। আমি ওদের দূর থেকেই দেখি। দেখতে দেখতে ভুলে
যাই এই ঝিলটা একদিন পুকুর ছিল। তারও আগে হয়তো ডোবাই ছিল।আর এই ডোবানো প্রলাপে ছিল
ঠোঁট। ফেরতের কিছু কিছু সাঁতারও।
ঘরে ফিরে
এসে জানালায় উঁকি দিলাম। পর্দা সরানো আছে আগের মতো। দরজাটা সেই ভেজানো কিন্তু খোলা
খোলা ভাব।
টিভি তে গান
চলছে
কিছুটা
শুনতে পাচ্ছি তাকে মহল্লার ইশারায়। পায়ের দিকে তাকালাম। সকলেই তাকায় অভিমান হলে।
রক্ত ঝরলে। আমিও কি তার বাইরে ছিলাম? না ভেতরে?
ঝিলের
বাচ্চারা এতক্ষণে আমার কাছে পৌঁছে গেছে। ওদের মা বাবারা ঘুমোচ্ছেন মাছেদের
পাশাপাশি। এই রাতবাড়ির খেলায় ওকে কাছে পাওয়াটা ভীষণ মনে হয়েছিল। মনে হয়েছিল আর
একবার যদি এই ঝিলেই ফিরে পাওয়া মানুষটার জন্য কোথাও জমিয়ে রাখা যায় চুলের কিনারে
কিনারে সামান্য কিছু পাথর
যারা আমাদের
রথযাত্রা শেখাবে... শেখাবে গড়ানো বাড়িদের কোথাও এখনো লেগে আছে মলাট।
লেগে আছে
মোরোগ সংলাপ।
No comments:
Post a Comment